ল-কলেজে ব্যাতিক্রমী চরিত্রের কিছু ছেলে থাকে দুষ্টুমিতে যারা এক একটি চ্যাম্পিয়ন। পানু নামে তেমনই এক জিনিয়াসকে সহপাঠী হিসেবে পেয়েছিলাম উচ্চমাধ্যমিকে। একেবারে সাদামাটা চেহেরা, মাথার চুলে আচ্ছা করে সর্ষের তেল ঘঁষে পাজামার উপরে হাফহাতা সার্ট পরে স্কুলে আসত। প্রয়োজনের বাইরে একটাও কথা বলতো না। অথচ তার মাথাটি ছিল দূষ্টুমির সয়ংক্রিয় কারখানা।
আর্টস-সায়েন্স কলা বিভাগের ক্লাস আলাদা হলেও ইংরেজি ও বাংলার ক্লাস একসাথে হত। নিয়মানুযায়ী মেয়েরা ক্লাসরুমের বামদিকের প্রথম দু’টো বেঞ্চে বসত। তারপর ছেলেরা। সেদিনও নিয়ম মেনে যে যার আসনে বসেছে। পানু ছিল ঠিক মেয়েদের পিছনের সারির মাঝখানে। সকলের অজান্তে সে পাশের ছেলেটির কলম নিয়ে সামনে বসা একটি মেয়ের শাড়িতে কালি ছিটিয়ে দিল। একটু পরে বিষয়টি জানাজানি হতে ক্লাসে হৈ চৈ পড়ে গেল।
তখন বলপেনের প্রচলন শুরু হলেও কোয়ালিটি ভালো ছিল না, কাটা কাটা লেখা হত। তাই বেশিরভাগ ছেলেমেয়ে ঝর্ণা কলম ব্যবহার করত। ঝর্ণা কলমে পছন্দের যে কোন রঙের কালি ভরা যায়। সেদিন ওই ছেলেটির কলমে কালি ছিল সবুজ রঙের, আর মেয়েটির শাড়িতে লেগেছিল সবুজ কালি। পরিনাম যা হবার তাই হল, হেডস্যার সেই ছেলেটির আগাপাছতলা আচ্ছা করে ধুয়ে দিলেন। সাথে পানু বাদে ক্লাসে উপস্থিত সকলের জন্য এক ঘা করে বরাদ্দ রাখলেন যাতে করে ভবিষ্যতে কেউ এমন বেয়াদবি করার সাহস না দেখায়।
পানু কেন হেডস্যারের কৃপা হতে বঞ্চিত হল?
ইংরেজি ক্লাস শেষে এই নিয়ে বিস্তর গবেষণার পর আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনিত হলাম যে, পানুর গোবেচারা গোবর্ধন মার্কা চেহারা আকৃষ্ট হয়ে হেডস্যার এই অপকর্মটি করে ফেলেছেন।
চলবে……
#banglasahitya #bangladesh #storyandarticle

0 Comments